ভেনিজুয়েলা অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছে  ইরান

ভেনিজুয়েলা অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছে ইরান

দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত — দেশজুড়ে নতুন দফার সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভেনিজুয়েলা অভিযান ইরানে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অভিযানে আটক করার ঘটনার পর তেহরানে প্রশ্ন উঠছে—একই ধরনের অভিযান কি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও হতে পারে?

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সরকারি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানালেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন আলোচনা চলছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করতে পারে।

বিশেষ করে জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষের স্মৃতি এখনও তাজা। ওই সংঘাতে ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। সে সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনিকে গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

তেহরানের এক শিক্ষক জানান, “ভেনিজুয়েলায় যা হয়েছে, তা আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, বিশেষ করে তেল, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক রাজনীতির প্রশ্নে।”

ইরানি টেলিভিশনে সম্প্রতি দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগের সংঘর্ষের সময় ইরানি কর্মকর্তাদের অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল—যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এমন দাবি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ধর্মীয় সমাবেশে এক প্রভাবশালী আলেম খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে জনসাধারণকে দোয়া করার আহ্বান জানান।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ভেনিজুয়েলার তুলনায় অনেক বড় দেশ এবং এর সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ উদ্ধার অভিযানের স্মৃতিও এখনো ওয়াশিংটনের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে আছে। পাশাপাশি, ইরানের ক্ষমতাকাঠামো ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব কোনো সামরিক হস্তক্ষেপকে জটিল করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান এখনো পারমাণবিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ধরে রেখেছে। ফলে যেকোনো বিদেশি অভিযানের পরিণতি হবে বহুমাত্রিক ও ঝুঁকিপূর্ণ।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বিষয়টি আলোড়ন তুলেছে। ইসরায়েলি নেতারা প্রকাশ্যে ইরানের চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করছেন, আর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনীতিক ভেনিজুয়েলার ঘটনার সঙ্গে ইরান প্রসঙ্গকে সরাসরি যুক্ত করছেন।

এ অবস্থায় বিশ্লেষকদের মতে, ভেনিজুয়েলার ঘটনা শুধু লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যেও নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার বার্তা দিচ্ছে—যার প্রভাব ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।

Leave a Reply

Cancel Reply

Your email address will not be published.

Follow US

VOTE FOR CHAMPION

Top Categories

Recent Comment

  • user by Anonymous

    Good luck Atoz news

    quoto
  • user by আব্দুল আলীম সরকার

    আপনাদের খবরগুলো ভালো

    quoto

Please Accept Cookies for Better Performance