কূটনৈতিক সমাধানে এখনো আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, তবে ইরানকে আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে: রুবিও

কূটনৈতিক সমাধানে এখনো আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, তবে ইরানকে আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে: রুবিও

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো সমঝোতা হতে হবে বাস্তবসম্মত এবং টেকসই। সেই সঙ্গে ইরানকে তার প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে।



ছবি: সংগৃহীত (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও)


রোববার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ইরানের পক্ষ থেকে এমন একটি ঘোষণা আসার কথা ছিল, যাতে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। কিন্তু সেই ঘোষণার পরিবর্তে ইরান তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের আগে ইরানকে নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে।”

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের দাবি

মার্কো রুবিও দাবি করেন, বর্তমানে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে ক্রমেই বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে। তার মতে, একদিকে রয়েছে এমন একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠী, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে সংঘাত অব্যাহত রাখতে চায়। অন্যদিকে রয়েছে এমন একটি অংশ, যারা দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পক্ষে।

তিনি বলেন, যদি আলোচনায় আগ্রহী ও সংস্কারপন্থী অংশ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও প্রভাবশালী ভূমিকা নিতে পারে, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

অর্থনৈতিক সংকট ও প্রক্সি গোষ্ঠী নিয়ে অভিযোগ

ইরানের অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য দেশটির নীতিকে দায়ী করে রুবিও অভিযোগ করেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিপুল আর্থিক সম্পদ বিভিন্ন প্রক্সি সশস্ত্র গোষ্ঠীর পেছনে ব্যয় করেছে।

তার দাবি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে কিংবা তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থের বড় অংশ হিজবুল্লাহ, হামাস এবং ইরাকভিত্তিক বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই অর্থ দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনগণের কল্যাণে ব্যয় হলে ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেক ভালো হতে পারত।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত থাকা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বজায় থাকায় আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বর্তমানে মূলত যুক্তরাষ্ট্র পালন করছে।

তার মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এ দায়িত্ব পালনে অন্যান্য দেশেরও আর্থিক ও বাস্তব সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চান, আন্তর্জাতিক এই নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় বহনে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলো আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুক।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান

মার্কো রুবিও বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রয়েছে—আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা কী ধরনের ভূমিকা পালন করবে।

তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু একটি দেশের নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থেই সবার যৌথ দায়িত্ব।

Leave a Reply

Cancel Reply

Your email address will not be published.

Follow US

VOTE FOR CHAMPION

Top Categories

Recent Comment

  • user by Anonymous

    Good luck Atoz news

    quoto
  • user by আব্দুল আলীম সরকার

    আপনাদের খবরগুলো ভালো

    quoto

Please Accept Cookies for Better Performance