রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: আইনমন্ত্রী

রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: আইনমন্ত্রী

রামিসা হত্যা মামলার বিচারকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।


শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক এই কর্মশালার যৌথ আয়োজন করে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি।


দ্রুত বিচার ও ডিএনএ রিপোর্টের অগ্রাধিকার

মামলার চার্জশিট ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী অতীতের দুটি উদাহরণ টেনে বলেন, মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় চার্জশিটের পর মাত্র এক মাসে এবং ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক মুলুক চাঁদ মামলায় মাত্র একদিনে বিচার সম্পন্ন হয়েছিল। রামিসা হত্যা মামলার ক্ষেত্রেও সরকার একই রকম তৎপরতা দেখাচ্ছে।


তিনি উল্লেখ করেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চার্জশিট দিলে প্রসিকিউশনে বড় ধরনের ত্রুটি (ফ্যাটাল ইনজুরি) থেকে যেতে পারে। এই মামলায় ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। সাধারণত এই রিপোর্ট আসতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লাগলেও, রামিসা হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


মন্ত্রী আরও জানান, ২৫ মে থেকে ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার আগেই যদি ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যায় এবং চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়, তবে ঈদের পরপরই আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। দেশ-বিদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে এই বিচার শেষ করতে সরকার আন্তরিক।


সামাজিক অবক্ষয় ও আইনি সহায়তা

দেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী একে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া নেত্রকোনায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনাটি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান।


কর্মশালায় আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার আইনি সহায়তা সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক হওয়া উচিত। বৈষম্যবিরোধী আইনে কোনো ত্রুটি থাকলে তা দূর করার আশ্বাসও দেন তিনি।


বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস। মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Leave a Reply

Cancel Reply

Your email address will not be published.

Follow US

VOTE FOR CHAMPION

Top Categories

Recent Comment

  • user by Anonymous

    Good luck Atoz news

    quoto
  • user by আব্দুল আলীম সরকার

    আপনাদের খবরগুলো ভালো

    quoto

Please Accept Cookies for Better Performance