ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর জানাজা আজ ঢাকায় রাষ্ট্রীয় ও দলীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই রাজধানীর জানাজাস্থল ঘিরে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আবেগঘন পরিবেশে জাতি আজ বিদায় জানায় দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক নেত্রীকে।
জানাজার আগে খালেদা জিয়ার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা, জোটসঙ্গী দলগুলোর প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক, সাবেক আমলা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে কুরআন তিলাওয়াত ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, জানাজায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও কূটনৈতিক মিশনের সদস্যরাও জানাজায় অংশ নেন। তাঁরা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
জানাজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো এলাকা ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প সড়ক ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, শান্তিপূর্ণভাবে জানাজা সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
জানাজা চলাকালে হাজারো মানুষের চোখে অশ্রু দেখা যায়। অনেক নারী-পুরুষ আবেগ সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে এবং দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার প্রয়াণ দেশের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতি বিএনপিসহ সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগ্রামের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
জানাজা শেষে বিশেষ মোনাজাতে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশ ও জাতির শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। এরপর জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। আজকের এই জানাজা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতি স্মরণ করল বাংলাদেশের রাজনীতির এক শক্তিমান অধ্যায়কে।
