অর্থনীতির বর্তমান সংকট মোকাবিলায় একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেলের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, “সবার আগে বিনিয়োগ, সবার জন্য বিনিয়োগ এবং সবার জন্য অর্থনীতি—এখন আমাদের এই দর্শনের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে।”
বুধবার রাজধানীর গুলশানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার আয়োজন করে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (এমসিসিআই), পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ।
তিতুমীর বলেন, দেশের অর্থনৈতিক নীতিমালা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা শ্রেণির স্বার্থকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের কর কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।
তার ভাষায়, “বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা দেখতে চান। প্রস্তাবিত বাজেটে সেই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।”
সরকারের কার্যক্রমের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কেবল প্রশংসা শুনতে চাই না। অতীতে একতরফা প্রশংসা শুনতে শুনতে দেশকে সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তাই গঠনমূলক সমালোচনাই আমাদের জন্য বেশি প্রয়োজন।”
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের তিন ধাপের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ পরিকল্পনার ধাপগুলো হলো—‘রিকভারি’, ‘রেস্টোরেশন’ এবং ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন’।
অনুষ্ঠানে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট সামগ্রিকভাবে ব্যবসাবান্ধব এবং এতে ব্যবসা সহজীকরণ ও সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটেছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বাজেট সময়োপযোগী হলেও এর সফল বাস্তবায়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে।”
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী নাসের এজাজ বিজয় বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটকে মানবিক বাজেট বলা গেলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারে আরও বিস্তারিত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তিনি।
পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, গত পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতি একাধিক ধাক্কার মধ্য দিয়ে গেছে। তার মতে, ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সংকটের কার্যকর সমাধান ছাড়া অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
Leave a Reply
Cancel ReplyVOTE FOR CHAMPION
Recent News
Get Latest News
Subscribe to our newsletter to get the latest news and exclusive updates.
Top Categories
-
Bangladesh
29
-
World News
27
-
আন্তর্জাতিক খবর
16
-
আন্তর্জাতিক
13
Recent Comment
-
by Anonymous
Good luck Atoz news
-
by আব্দুল আলীম সরকার
আপনাদের খবরগুলো ভালো
