ভারতের রাজপথে শিক্ষার্থীদের পাশে তারকারা, চাপ বাড়ছে মোদি সরকারের ওপর
ভারতে প্রশ্নফাঁস বন্ধ, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। জাতীয় পতাকা হাতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বিপরীতে পুলিশের ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও ধরপাকড়ের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির বিভিন্ন রাজ্য।
চলমান পরিস্থিতিতে ভারতের রাজপথের দৃশ্য অনেকের কাছেই বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইতোমধ্যে বলিউডের একাধিক তারকা, সংগীতশিল্পী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের পাশে বলিউড তারকারা
চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলিউড সুপারস্টার সালমান খান শিক্ষার্থীদের সাহসী ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আন্দোলনটি যেন কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়।
অন্যদিকে অভিনেতা ইমরান খান শিক্ষার্থীদের মিছিলে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। মুম্বাইয়ের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি দিল্লির জন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
প্রবীণ অভিনেতা অনুপম খেরও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তাঁর আহ্বান, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য যেন রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানীদের কারণে আড়ালে চলে না যায়। শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংগীতশিল্পীদের সংহতি
শুধু অভিনেতারাই নন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন দেশটির একাধিক সংগীতশিল্পীও। গায়ক অরিজিৎ সিং তরুণদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের শক্তি ও সাহস কামনা করেছেন।
চলমান পরিস্থিতির প্রতি সম্মান জানিয়ে হানি সিং ও আরমান মালিক তাদের নতুন গান প্রকাশ স্থগিত করেছেন বলে জানা গেছে। প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমিও আন্দোলনকারীদের পাশে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন।
এছাড়া অভিনেতা প্রকাশ রাজ, কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরা এবং অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করও আন্দোলনকারীদের সমর্থনে মাঠে রয়েছেন। এক সমাবেশে প্রকাশ রাজ স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে আছেন।
পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের অভিযোগে সরব হয়েছেন আরও অনেক তারকা। দিলজিৎ দোসাঞ্জ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো সরকারের দয়া নয়; এটি নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার।
সোনাক্ষী সিনহা পুলিশের লাঠিচার্জের সমালোচনা করে বলেন, এতে শুধু মানুষের শরীরই আহত হয়নি, পুরো দেশের হৃদয়ও ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাহস ধরে রেখে ন্যায়ের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া প্রীতি জিনতা, স্বস্তিকা দত্ত, শ্রীলেখা মিত্র, দিয়া মির্জা ও সোনু সুদসহ আরও অনেক শিল্পী শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের পাশে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরাও
আন্দোলনের সঙ্গে ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরাও। বিভিন্ন স্থানে তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার, পানি ও চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসছেন।
এই দৃশ্য অনেকের কাছে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তখনও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার, পানি, চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন সাধারণ মানুষ।
নীরব তারকাদের নিয়েও প্রশ্ন
তবে এত বড় আন্দোলন ও পুলিশের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও বলিউডের অনেক শীর্ষ তারকা এখনো নীরব রয়েছেন। এ নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নও উঠছে।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জবাব কি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস হতে পারে—এই প্রশ্ন এখন ভারতের রাজপথ ছাড়িয়ে দেশটির সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ ও তারকাদের ক্রমবর্ধমান ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ফলে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া এখন সবার নজরে।
